বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
নির্বাচন সময় ঘিরে রাজনৈতিক দুই শিবিরের তীব্র সংঘর্ষ!
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটে। প্রধান উপদেষ্টার সামনেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ও সময়সূচি নিয়ে এ দ্বন্দ্ব দেখা দেয় বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আলোচনার সূচনা হয় গত সোমবার (২ জুন) থেকে।
সূত্রের খবর, বৈঠকের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি ও কমিশনের অন্যান্য সদস্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও প্রস্তাব শুনেন।
বিএনপির পক্ষে বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট জানান, ৩১ ডিসেম্বরের পরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি ৩১ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন পেছানোর কোনও প্রস্তাব মেনে নেবে না।’
এর পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কিছু দল ভারতের দিকনির্দেশনার সাথে সুর মিলিয়ে ডিসেম্বরেই নির্বাচন চাইছে। তাদের বক্তব্য ভারত সরকারের মতাদর্শের দিকেই ইঙ্গিত করছে।’
নাহিদের এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সালাহউদ্দিন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘যদি ডিসেম্বরের নির্বাচন চাওয়াকে ভারতের সুরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তাহলে যারা নির্বাচন পেছানোর পক্ষে, তারা নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের প্রভাবের সুরে কথা বলছে।’
এই বিতর্ক দ্রুত তীব্র আকার নেয় এবং দুই নেতার মধ্যে বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়। পরে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা তাদের বিরক্তিকর আলোচনা থামিয়ে দেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র নেতা সালাহউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্ভব এবং সফল করতে নির্বাচনী সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।’
অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়নের আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা যৌক্তিক হবে না। পূর্বেই নির্বাচন ঘোষণা করলে সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।’